Oct 30, 2012

ইশারা - শ্রীজাত

অকালপ্রয়াত কালু দাসের স্ত্রী একবার আমাকে ইশারা করেছিল,
আমি রাজি হইনি। তা সে গেল খেপে। তৎক্ষণাৎ নালিশ জানাতে ছুটল
পাড়ার দাদা লালটুকে। লালটু সব শুনেটুনে বলল- ‘কীরকম ইসারা 
করেচিলি?’ কালু দাসের স্ত্রী ইশারা করে দেখাল, লালটু রাজি হয়ে গেল।
কালু দাসের স্ত্রী গেল বেদম চটে, লালটুকে তো সে চায়নি, চেয়েছে 
আমাকে। দ্বিগুণ রাগ বুকে চেপে সে গেল এলাকাপ্রধানের বাড়ি।
সেখানে আরেক কেচ্ছা – কালু দাসের স্ত্রী কিছু বলার আগেই এলাকাপ্রধান
তাকে ইশারা করে বসল। এইবার কালু দাসের স্ত্রী তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে
এলাকাপ্রধানকে চড় মেরে বেরিয়ে গেল। এলাকাপ্রধান লালটুকে ডেকে
বললেন এই ঘটনা। লালটু জিজ্ঞেস করল – ‘কী ইসারা করেচিলেন
স্যার?’ এলাকাপ্রধান দেখালেন, লালটু সাবধান হয়ে ফিরে গেল।
কথায়-কথায় আমাকে একদিন বলল – ‘সোন, ওই সালা কালুর বউটা
বহুৎ দেমাগি। ওকে যেন ইসারা-টিসারা দিসনি, কেলিয়ে দেবে। স্যার
এই রকম ইসারা করেচিলেন, স্যারকেও ছাড়েনি’ বলে স্যারের করা ইশারা
আমায় যত্ন সহকারে দেখাল। আমি এরপর একদিন কালু দাসের স্ত্রীকে
জিজ্ঞেস করলাম – ‘কী গো, এলাকাপ্রধান নাকি তোমাকে ইশারা
করেছেন?’ কালু দাসের স্ত্রী অবাক হবার ভান করে বলল – ‘কীরকম
ইশারা বলুন তো?’ আমিও বোকার মতো ইশারা করে দেখালাম আর
কালু দাসের স্ত্রী রাজি হয়ে গেল।

(ইশারা – শ্রীজাত) 

ফেসবুকে প্রাপ্ত কবিতাটি ভবিষ্যতের জন্য ব্লগে সংরক্ষণ করা হলো।